
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংগীত মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রকাশ। সেই সুরের পথ ধরে দীর্ঘদিনের সাধনা, নিষ্ঠা ও প্রতিভার মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করে চলেছেন সংগীতশিল্পী মেঘনা মজুমদার। ঐতিহ্যবাহী মজুমদার পরিবারের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে তিনি হয়ে উঠছেন সম্ভাবনাময় এক শিল্পী।
মেঘনা মজুমদার প্রখ্যাত জমিদার নিশেন্দ্রনাথ মজুমদারের নাতনি। তার পিতা শ্রী রথীন্দ্রনাথ মজুমদার এবং মাতা শ্রীমতী দুর্গা মজুমদার। ১৯৭৫ সালে জন্ম নেওয়া মেঘনা ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি করেন।
শৈশব থেকেই গানকে সঙ্গী করে শুরু হয় তার পথচলা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও সাধনার মাধ্যমে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করেছেন তিনি। আধুনিক গান, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের বিভিন্ন ধারায় রয়েছে তার দক্ষতা। তার কণ্ঠের মাধুর্য ও আবেগঘন পরিবেশনা শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
শিক্ষাজীবনেও সফল মেঘনা মজুমদার। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সংগীত—এই তিন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শিক্ষা ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন।
তিনি দিল্লি রেডিওর একজন স্বীকৃত শিল্পী। ভারতের ওড়িশার রাউরকেলায় বসবাসকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিচারকের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি কলকাতার পিয়ারলেস নগর, পানিহাটি, সোদপুর এলাকায় বসবাস করছেন। এর আগে তিনি ভারতের ওড়িশার রাউরকেলায় বসবাস করতেন।
শুক্রবার (৩০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মেঘনা মজুমদার বলেন,
“সংগীত আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিয়মিত চর্চা ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। একজন শিল্পীর পথচলায় নিষ্ঠা, ধৈর্য ও নিরন্তর অনুশীলন প্রয়োজন। শ্রোতাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বপ্ন, সংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এবং বাংলা গানকে আরও সুন্দরভাবে সবার সামনে তুলে ধরা। ভবিষ্যতেও ভালো গান উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে যাব।”
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মেঘনা মজুমদারের কণ্ঠে রয়েছে বিশেষ মাধুর্য ও আবেগ। তার নিষ্ঠা, প্রতিভা ও সাধনা তাকে ভবিষ্যতে সংগীতাঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
ঐতিহ্যের শেকড় ও সুরের সাধনাকে সঙ্গে নিয়ে মেঘনা মজুমদারের এই পথচলা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।