1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
Title :
ধানের বীজে ডিলারের অভিনব প্রতারণা,বিপাকে দুই শতাধিক কৃষক! ডোমারে সরকারি ম্যাপে রাস্তা থাকলেও বাস্তবে নেই, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যের ২ জনকে আটক করেছে শাহআলী থানা! কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলেন আইজিপি বরগুনায় নদীর তীরে অজ্ঞাত লাশ,শনাক্ত হয়নি পরিচয়! ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র,গড়ে উঠেছে ছাগল ও হাঁসের খামার ! মিরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা সুমনসহ গ্রেপ্তার ২ বরগুনায় ৫৮ বছরের চিনি বেগমও মাদক ব্যবসায়ী! বরগুনায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আমতলী রহমানিয়া ফিলিং স্টেশনে ফের জরিমানা!

ধানের বীজে ডিলারের অভিনব প্রতারণা,বিপাকে দুই শতাধিক কৃষক!

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ Time View

মো:মনিরুল ইসলাম,বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা এলাকায় ব্রি-৯৮ জাতের ধানের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। বীজ রোপণের প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। আউশ মৌসুমে ক্ষতির পর একই জমিতে আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে।

শুক্রবার ছুরিকাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ধানের গোছা হাতে নিয়ে বীজের মান নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ব্রি-৯৮ জাতের বীজ কিনে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকেরা ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে তাঁরা জমি প্রস্তুত করে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষের জন্য বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করেন। পরে চারা জমিতে রোপণ করা হয়। কৃষকদের দাবি, ব্রি-৯৮ জাতের ধান সাধারণত প্রায় ১১০ দিনে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক জমিতে ধানে আশানুরূপ ফলন আসেনি।

কৃষকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সন্তোষজনক সমাধান পাননি। তাঁদের দাবি, ব্রি-৯৮-এর নামে অন্য জাতের ধান বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার।

কৃষকেরা আরও জানান, আউশ মৌসুমের ধান কাটার পর একই জমিতে আমন চাষ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু আউশ ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় সময়মতো জমি খালি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে আমন মৌসুমের চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেন, “আমি ৮ একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু আশানুরূপ ফলন আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করার অবস্থাও নেই। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।”

কৃষক দেলোয়ার গাজী বলেন, “আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। আমরা ডিলার খালেক হাওলাদারের শাস্তি দাবি করছি।”

কৃষক মো. রনি আহমেদ বলেন, “ব্রি-৯৮ ধান রোপণ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন অনেক কৃষকেরই পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে।”

কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “কৃষিই আমার মূল পেশা। ধান চাষের আয় দিয়ে সারা বছর পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করতে হয়। এবার সেই ধান হয়নি। আমরা আউশ ও আমন দুই মৌসুমেই ধান চাষ করি। কিন্তু এবার কোনো মৌসুমেই ঠিকমতো ধান চাষ করতে পারব কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।”

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার বলেন, “আয়ান সিডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে দিয়েছে, আমি সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।”

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সরেজমিনে বিষয়টি দেখতে আসবেন। ডিলার বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved