
তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পশ্চিম বোড়াগাড়ী মৌজার চান্দিনা পাড়া ও উওরপাড়া এলাকার ৯ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি জরিপের ম্যাপে থাকা প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার বড় একটি অংশ বর্তমানে বাস্তবে নেই। ফলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদ (হাফেজ)-এর বাড়ি থেকে উত্তর দিকে উত্তরপাড়ার আব্দুল বারেক-এর বাড়ী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি সিএস ও বিএস জরিপের সময় সরকারি ম্যাপেও চিহ্নিত ছিল। বিএস দাগ নম্বর ১৩৫৫ ও ১৯৪৪-এর মধ্যবর্তী স্থান থেকে রাস্তাটির শুরু এবং ১০২২ ও ২১৩৭ নম্বর দাগের মধ্যবর্তী স্থানে রাস্তাটির শেষ দেখানো হয়েছে।
তবে বর্তমানে রাস্তাটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার জায়গা সংলগ্ন বিভিন্ন দাগের জমির মালিকরা রাস্তার অংশ কেটে নিজেদের জমির সঙ্গে একীভূত করে ভোগদখল করছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথটি হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএস দাগ নম্বর ১৩৫৫, ১৩৫৪, ১৯৪৪, ১৯৪১, ১৯৪৭, ১৯৪৮, ১৯৪৯, ১৩৪৭, ১৩১৪, ১৯৫০, ২০০১, ২০০২, ১৩১৩, ১৩১২, ১৩১১, ১৩০৬, ২০০৩, ২০০৬, ২০০৭, ১৩০৫, ১২৯৭ ও ১২৯৬-এর মধ্যবর্তী বা সংলগ্ন রাস্তার অংশ বর্তমানে নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান আলী বলেন, “সরকারি জরিপের ম্যাপে থাকা এই রাস্তাটি এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে রাস্তার বড় একটি অংশের অস্তিত্ব না থাকায় আমাদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রুত সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ বলেন, “সিএস ও বিএস জরিপের ম্যাপে রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত জায়গাটি সরেজমিনে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী রাস্তার জায়গা নির্ধারণ করে জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ ইসলাম বলেন, “রাস্তা না থাকায় এলাকার মানুষকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”
শিউলি বেগম বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়ে এলাকার মানুষ চলাচল করতেন। বর্তমানে রাস্তার বড় অংশের কোনো অস্তিত্ব নেই। নারী, শিশু ও বয়স্কদের অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করা হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।”
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুন্না রানী চন্দ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার অস্তিত্ব না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলসহ জরুরি প্রয়োজনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দুর্ভোগ পোহালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সিএস ও বিএস রেকর্ড এবং সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী সরেজমিনে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে রাস্তার জায়গা উদ্ধার এবং পুনরায় জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।