
সোহাগ হাওলাদার:
দেশজুড়ে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের আগ্রাসন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, আজ মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত। মাদক শুধু একটি ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, এটি ধীরে ধীরে মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকেও গ্রাস করে নেয়। ফলে সমাজে বাড়ছে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
মরণ নেশা ইয়াবা, আইস, গাঁজা, হেরোইন ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য দীর্ঘদিন সেবনের ফলে মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, অস্বাভাবিক আচরণে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় হিংস্র হয়ে ওঠে। এর ফলে সামান্য ঘটনাকেও কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে ভয়াবহ খুনের ঘটনা। একইসঙ্গে বিকৃত মানসিকতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে বাড়ছে নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ।
শিশু ধর্ষণ ও খুনের বহু ঘটনার পেছনে দেখা যায়, মাদকাসক্ত অপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন কিংবা বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের ফলে অপরাধীরা হয়ে ওঠে হিংস্র, বেপরোয়া ও অমানবিক। তারা হারিয়ে ফেলে ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা। ফলে কোমলমতি শিশুরাও তাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মাদক শুধু একজনকে অপরাধী বানায় না, এটি একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। পরিবারে অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয়, কিশোর অপরাধ, ধর্ষণ ও খুন, সবকিছুর সাথেই মাদকের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মাদকের বিস্তার এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা অবনতির বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। পরিবারে অশান্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপরাধ প্রবণতা, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি এবং বেকারত্ব,সবকিছুর সঙ্গে মাদকের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সহজলভ্য মাদক তরুণদের ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও দেশজুড়ে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, প্রয়োজন পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।