
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর ঘন্টাখানেক পর বাংলাদেশ সময় ১১টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করার কথা।
এই ফ্লাইটটিকে ভুতুরে বলা হচ্ছে কারণ, সরাসরি দেশে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এই ফ্লাইটের টিকিট কেটে ৩দিন ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে বেশ কিছু বাংলাদেশি, এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
ঘটনা হচ্ছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো–ঢাকা ফ্লাইটে ছিলেন প্রায় ২৫৬ যাত্রী। তাদের মধ্যে প্রায় ১৭০ জন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী।
রিফুয়েলিংয়ের জন্য ইতালির রোমে অবতরণের পর ধরা পড়ে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি। প্রথমে বলা হয়েছিল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু অপেক্ষা গড়ায় ৯ ঘণ্টায়। অভিযোগ, এর মধ্যে কয়েক ঘণ্টা বিমানের এসিও বন্ধ ছিল। এসি বন্ধ থাকলে যাত্রীদের অবস্থা কেমন হয়ে যায় সবাই জানেন।
৫/৬ ঘন্টা পরে জানা গেল এই ত্রুটি সারাতে সময় লাগবে
যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয় যে, ফ্লাইটের সকলকে খাবার ও হোটেল দেয়া হবে।
কিন্তু সমস্যা বাধে বাংলাদেশ পাসপোর্টে।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ইতালির ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিমানবন্দরের বাইরে যেতে পারেননি। মুল ওয়েটিং লাউঞ্জেও যেতে পারেন নি।
অন্যদিকে কানাডিয়ান ও আমেরিকান পাসপোর্টধারীরা নিয়ম অনুযায়ী বাইরে হোটেলে যেতে পেরেছেন।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট হোল্ডারদের ইমিগ্রেশন ক্রস করতে দেয়নি ইটালিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
এখন উপায়?
টার্মিনালে প্রবেশের পর থেকে ইমিগ্রেশনের পূর্ব পর্যন্ত যাত্রীদের আসা যাওয়ার যেই জায়গা থাকে সেখানেই অবস্থান করতে দেয়া হয়।
এখানেই অপেক্ষা করতে থাকেন তারা
এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে করতে দিন পাড় হয়ে যায়, রাত পাড় হয়ে যায।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এই যাত্রীদের বড় একটি অংশ বৃদ্ধ বাবা-মা ও শিশু। ডিরেক্ট দেশের ফ্লাইট হওয়ায় এখানে ছিল অনেক বৃদ্ধ বাবা মা যারা একা ভ্রমণ করছেন। তাদের ঔষধ খেতে হয়, হাত ধরে টয়লেটে নিতে হয়, এমন মানুষও।
এই ১৭০ জনকে দীর্ঘ ৩৫ ঘন্টা এই স্থানে অবস্থান করতে হয়।
যারা বিদেশ যাতায়াত করেন তারা জানেন, এটা কোন লাউঞ্জ নয়, ফলে এখানে শোয়া ও বসার ভালো কোন ব্যবস্থা নাই।
অনেকে চাদর টাওয়াল যা সাথে ছিল তাই ফ্লোরে বিছিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেছে। কেউ বাথরুমের আশেপাশে শুয়ে পড়েছে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার এ প্রয়োজনিয় টুলস নিয়ে গিয়ে সেই বিমানের ত্রুটি মেরামত করে তারপর ৩৫ ঘন্টা পর বিমানটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বিমানটি এখন আকাশে আছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কিছুক্ষণ পর অবতরণ করবে।
আরেকটি বিষয়, যেহেতু এই ফ্লাইটটি টরেন্টো থেকে সরাসরি ঢাকায় আসার কথা ছিল সেহেতু কানাডার অন্যান্য শহর থেকেও কিছু যাত্রীরা অন্য ফ্লাইট ধরে টরেন্টো এসে অপেক্ষা করেছিল, তারপর এই ফ্লাইট ধরেছিল। তাদের অবস্থা ছিল বেশি গুরুতর কারণ তাদের প্রায় ৩দিন এভাবে উদ্বাস্তুর মত থাকতে হয়েছে।