
বরগুনা প্রতিনিধি :
সমসাময়িক আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জুন মাসে উদ্ধারকৃত মরদেহ সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং
বরগুনা জেলার সার্বিক আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বরগুনা জেলা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি—ডাকাতি প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দিন—রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চলতি জুন মাসে ইতোমধ্যে বরগুনা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মোট ২১ টি মরদেহ উদ্ধার পূবর্ক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলোর শ্রেণিবিন্যাস নিম্নরূপ:
ক. হত্যাকান্ডঃ— ০৩(তিন) টি ঘটনায় ০৩ জন ব্যক্তি।
১. গত ০৮/০৬/২০২৬ তারিখ বরগুনা সদর থানা এলাকায় মোঃ শামিম বেপারী (৪২),(সুদের কারবারী), পিতা—মোঃ মুনসুর বেপারী, সাং—গৌরীচন্না, থানা ও জেলা—বরগুনাকে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়েছে। শামিমের পরিবার শামিমের রক্তমাখা স্যান্ডেল ঘটনাস্থলে দেখে পুলিশকে সংবাদ দেয়। তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শামিমের মরদেহ পাশের খাল থেকে উদ্ধার করে। শামিমের স্ত্রী বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলা করে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ০৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ০১ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। ০৩ জন আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
২. গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ পাথরঘাটা পৌরসভার পানি উন্নয়ন র্বোডের দক্ষিন পাশে মিজানুর রহমান(৪৫), পিতা—মৃত সফেজ উদ্দিন, সাং—০২নং ওয়ার্ড পাথরঘাটা পৌরসভা, থানা—পাথরঘাটা, জেলা—বরগুনা নামক একজন অটোচালক প্রতিদিনের নেয় নিজ বাসায় খাওয়া—দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে যায়। রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকায় বাসা থেকে বের হয়ে বাহিরে যায়। তারপর আর বাসায় ফিরে আসেনি। ফরজের আযানের পর সকল অনুমান ০৪:৪৫ ঘটিকায় স্থানীয় লোকজন নামাযের জন্য বাহিরে বের হলে মিজানকে মৃত অবস্থায় রাস্তার পাশে দেখতে পায়। ভিকটিমের বুকে কাটা জখম, মাথার পিছনে গুরুতর জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। ডিসিস্টের ভাই মোঃ আবুল কালাম বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে। উক্ত মামলায় ০২(দুই) জন এজাহারনামীয় আসামীদ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে।
৩। মাদক ব্যবসায়ী, শীর্ষ সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং এর হোতা ইব্রাহিম হোসেন ওরফে কালু ওরফে বস্তি কালু নিজে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী কালু এর নামে মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বিভিন্ন ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে। কালু র্যাব ও পুলিশ কর্তৃক একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। সর্বশেষ বরগুনা জেলা পুলিশ কর্তৃক গত ফেব্রুয়ারী/২৬ মাসে গ্রেফতার হয়ে তিন মাস দশ দিন জেল খেটে মহামান্য হাইকোর্টের মাধ্যমে জামিনে আসে। জামিনে এসেই সে তার পূর্ববর্তী পেশায় নিয়োজিত হয়ে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে। এ সকল কার্যক্রমের বিপক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে কালু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধন করতে চেয়েছিল। উক্ত মানববন্ধনের কথা শুনে কালু ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা কে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর যখন করে। পরবর্তীতে গোলাম মোস্তফার আত্মীয়—স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে সন্ত্রাসী কালুকে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সংক্রান্তে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
খ. দুর্ঘটনাজনিত অপমৃত্যুঃ— ০৭(সাত) টি ঘটনায় ০৯ জন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করে।
১। গত ১০/০৬/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪:৩০ ঘটিকার সময় বরগুনা থানাধীন ধলুয়া গ্রামের মোসাঃ নুপুর বেগম (৩৫) ও তার ছেলে সন্তান শাহাজাদা (০২) পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়। প্রকাশ থাকে যে, ঘটনার দিন ঝড় হওয়ায় বিদ্যুতের তার ছিড়ে পুকুরের ভিতরে পড়ে থাকার কারণে পুকুরের পানি বিদ্যুতায়িত হয়। এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ৩৩, তারিখ—১০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
২। গত ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ০৭:৩০ ঘটিকার সময় বরগুনা সদর থানাধীন পরিমল চন্দ্র(৫০) তার বাড়ীর পাশে খেলার মাঠে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের খুটির সাথে থাকা আর্তিং তার স্পর্শ করলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয়। তাকে তার আত্নীয়—স্বজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ৩১, তারিখ—০৭/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৩। গত ০৫/০৬/২০২৬ তারিখ অনুমান সকাল ১০:১৫ ঘটিকার ঝড়ের সময় বরগুনা থানাধীন মোঃ মহিউদ্দিন (৪০) তার নিজস্ব জমিতে কৃষি কাজ করাকালীন বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। তাকে তার আত্নীয়—স্বজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ৩০, তারিখ—০৫/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৪। গত ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ অনুমান সকাল ০৯:৪৫ ঘটিকার বৃষ্টির সময় বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন মোঃ ওলিউল্লহ (৪৫) নদীতে মাছ ধারার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। তাকে তার আত্নীয়—স্বজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্তে আমতলী থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ১৮, তারিখ—০৭/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৫। গত ০৩/০৬/২০২৬ তারিখ অনুমান সকাল ০৯:০০ ঘটিকার সময় আমতলী থানাধীন ইউসুফ মাওলানার নির্মনাধীন ভবনের ভূ—গর্ভস্থ পানির টাংকি পরিষ্কার করার সময় টাংকির ভিতরে গ্যাসের কারনে অক্সিজেন না থাকায় জাহিদ (৩৫), জাফর (৫৫) গুরুতর আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষনিক উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্তে আমতলী থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ১৭, তারিখ—০৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৬। গত ০৮/০৬/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫:৩০ ঘটিকার সময় বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন মোঃ আবু তালাহ (০২) তার নিজ বাড়ীতে বসত ঘরের পার্শ্বে ছোট জলাশয়ের/পুকুরের ভিতর পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে তার আত্নীয়—স্বজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্তে আমতলী থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ১৯, তারিখ—০৮/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৭। গত ১০/০৬/২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ১২:০০ ঘটিকার সময় বরগুনা সদর হাসপাতালে ডাস্টবিনে ০৩(তিন) মাস বয়সের একটি ভ্রম্নন বরগুনা থানা পুলিশ কতৃর্ক উদ্ধার করা হয়। উক্ত ভ্রম্ননের ডিএনএ স্প্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ৩২, তারিখ—১০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
গ. আত্মহত্যাজনিত অপমৃত্যুঃ— ০৭(সাত) টি ঘটনায় ০৯ জন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করেন।
১। গত ০৬/০৬/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩:৩০ ঘটিকার সময় বরগুনা থানাধীন বরগুনা জেলা পরিষদের ৩য় তলায় একটি রুমে মা ইতি রানী (৩৪), তার মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (০৩) এবং অন্য একটি রুমে আরাদ্দা বিশ্বাস (১২) দের মৃত দেহ খাটের উপর পাওয়া যায়। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে তারা আত্নহত্যা করেছেন। সকল আইনী কার্যক্রম শেষে মৃত্যুর সঠিক কারন নির্ণয়ের জন্য বরগুনা জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। বরগুনা জেলা হাসপাতাল হতে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেলেও উক্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ভিকটিমদের শরীরের বিভিন্ন স্যাম্পল রাসানিক পরীক্ষাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় পূর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ২৯, তারিখ—০৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
২। গত ০৫/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০৯:০০ ঘটিকা হতে ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ সকাল ০৭:০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় বরগুনা সদর থানাধীন ছালেহা বেগম (৯৩) বাধর্ক্য জনিত রোগ ও কিছু দিন যাবত মানষিকভাবে অসুস্থ থাকার করনে লোকচক্ষুর অন্তড়ালে রান্ন ঘরের বাশেঁর আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে মর্মে প্রাথমিক ভাবে জানা যায় । এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ৩৪, তারিখ—১৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৩। গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ বরগুনা থানাধীন আয়লা পাতাকাটা গ্রামস্থ মোসাঃ রুবি আক্তার কনা (৩৪), তার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করার কারণে ঝঁরপরফধষ ঘড়ঃব (চিরকুট) লিখে স্বামীর সাথে অভিমান করে গাল ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে মর্মে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। এ সংক্রান্তে বরগুনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ৩৫, তারিখ—১৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৪। গত ১২/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০৯:০০ ঘটিকা হতে ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০১:০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় বরগুনা জেলার বামনা থানাধীন মোঃ আবির হোসেন@ এহছান হাওলাদার (১৮) বছর প্রেমের কারণে প্রেমিকা জান্নত (১৮), পিতা—মোঃ খোকন মিয়া, সাং—জয়নগর, থানা—বামনা, জেলা—বরগুনা এর সাথে অভিমান করে লোকচক্ষুর অন্তড়ালে তার বসত ঘরে পাটাতনে আড়ায় থাকা গজা লোহার (বড়) এর সাথে একটি পুরাতন গামছা বেধে গালা ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে মর্মে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। এ সংক্রান্তে বামনা থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ০৮, তারিখ—১৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৫। গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০৭:৩০ ঘটিকা হতে ০৮:৩০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় বরগুনা জেলার বেতাগী থানাধীন প্রনিতা (২১) কে তার অমতে পিতা—মাতা অন্যত্র বিবাহ দেওয়ার কারনে নিজ বসত ঘরের বারান্দায় লোকচক্ষুর অন্তড়ালে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে মর্মে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। এ সংক্রান্তে বেতাগী থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ০৮, তারিখ—১৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৬। গত ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ১১:৪৫ ঘটিকা হতে ০৮/০৬/২০২৬ তারিখ সকাল ০৬:৩০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন মোঃ মামুন খান (৩০) তার মায়ের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনমালিন্যর কারনে নিজ বসত ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে মর্মে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। এ সংক্রান্তে তালতলী থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ১৯, তারিখ—০৮/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
৭। গত ১৪/০৬/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ০৮:১০ ঘটিকা হতে সকাল ০৯:০০ঘটিকা মধ্যে যে কোন সময় বরগুনা জেলার তালতলী থানায় কর্মরত কনস্টেবল/৫৯১ মোঃ ফারুক গাজী পারিবারিক সমস্যার কারনে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে (চালের পোকা মারার ঔষধ) খেয়ে আত্নহত্যা করে। এ সংক্রান্তে তালতলী থানার অপমৃত্যু মামলা নম্বর ২০, তারিখ—১৪/০৬/২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
উদ্ধারকৃত প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে হত্যাকণ্ডারের ঘটনায় রুজুকৃত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
পুলিশ সুপার বরগুনা জানান, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল শ্রেনী—পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতিটি ঘটনার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত পূবর্ক মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশ পোস্ট মর্টেম করানো হয়। যাতে পরবর্তীতে ভিকটিমদের প্রকৃত অভিবাবক ডাক্তারি রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে যদি কোন বির্তক সৃষ্টি হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে যেকোনো অপরাধ, সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্যদাতার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখা হবে।