
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর কল্যাণপুরে একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া সোহেল নামে এক যুবকের নেতৃত্বে এলাকায় মব সৃষ্টি করে পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে ৫ অক্টোবর বিকেলে কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকায়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিরপুর মডেল থানায় করা একটি মামলার আসামি মো. সেলিমের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তার সন্ধান পেলেও একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে জটিলতা তৈরি হয়।তারপরও আসামি ধরার চেষ্টা অব্যাহত রাখে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুন্নবীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। এ সময় সোহেল নামে এক যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওই যুবক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এসআই মাহমুদুন্নবীকে বিভিন্ন ধরনের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এবং টাকা নিয়ে আসামি ধরতে এসেছেন—এমন অভিযোগ করেও মব সৃষ্টি করতে দেখা যায়।
পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে মামলার কাগজপত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতির কারণে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কল্যাণপুর পোড়া বস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তাকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মিরপুরের আলোচিত রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তরিকুল ইসলামের অনুসারী ও স্বজনদের একটি অংশই ওইদিন পুলিশের অভিযানে বাধা সৃষ্টি করে এবং মব তৈরি করে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে দেয়নি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।তবে মব সৃষ্টি করা ওই সোহেল আসামির সন্তান বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিরপুর জোনের উপপুলিশ কমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের বাধা পুলিশের কার্যক্রম ও মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে বাধা সৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কল্যাণপুর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধ আরও বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।