
বিনোদন ডেক্স:
বিংশ শতাব্দীর চট্টগ্রাম। বাড়ির ছাদে ডিশের এনটেনা উঁচু হয়ে আছে। জাফর আহমেদের বাড়িটা এই পাড়ার একটা পরিচিত দৃশ্য। দোতলা সাদা-ক্রিম রঙের বাড়ি, সামনে লোহার গেট, পেছনে ছোট বাগানে আম আর নারকেল গাছ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সবকিছু সুন্দরভাবে চলছে। কিন্তু ভেতরে, মানুষের জীবন যেমন হয়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকে না।
জাফর আহমেদ, পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। চট্টগ্রামের জাহাজ ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করেন। সকালে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে অফিসে বেরিয়ে যান, সন্ধ্যায় ক্লাবে বা ব্যবসায়িক মিটিংয়ে থাকেন। বাড়িতে এলে সোফায় বসে টেলিভিশনে বিবিসি নিউজ দেখেন। কথা কম বলেন। হুমায়রা চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা অনেকদিন ধরে শান্ত নদীর মতো—কোনো ঢেউ নেই, কিন্তু গভীরে কী আছে, তা কেউ জানে না।
হুমায়রা চৌধুরী, বিয়াল্লিশ। এখনও তাঁর রূপ আছে। লম্বা চুল, ফর্সা গায়ের রং, চোখে একটা নরম, ক্লান্ত আলো। সকালে বাগানে গাছের যত্ন করেন, দুপুরে রান্নাঘরে থাকেন, বিকেলে বারান্দায় বসে চা খান আর মাঝে মাঝে মোবাইলে কারো সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাঁর চোখে কখনো কখনো একটা দূরের দৃষ্টি ভেসে ওঠে। যেন কিছু হারিয়ে গেছে, অথচ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তাঁদের একমাত্র মেয়ে সায়মা। আঠারো বছর। ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষ। চট্টগ্রামের এক নামকরা কলেজে পড়ে। সায়মাকে দেখলে চোখ আটকে যায়। শ্যামলা ত্বক, বড় বড় চোখ, ঠোঁটে সামান্য হাসি। তার শরীরে যৌবন এসেছে পুরোদমে—ভরাট বুক, সরু কোমর, চলার ভঙ্গিতে একটা স্বাভাবিক ছন্দ। সে যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়ায় বা মোবাইলে এসএমএস টাইপ করে, তখন বাতাসে তার চুল উড়ে যায়। ফিরোজ সাহেব যেদিন প্রথম এই দৃশ্য দেখলেন, সেদিন তাঁর চোখ আর সরাতে পারলেন না।
বাড়িতে কাজের মেয়ে রেহানা। গ্রাম থেকে এসেছে। চুপচাপ, পরিশ্রমী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে। সায়মার ঘর গোছায়, কাপড় ধোয়, আর মাঝে মাঝে চুপ করে সব দেখে। কিছু বলে না।
সায়মার কলেজের বন্ধু নিশা। মোটা, হাসিখুশি। প্রায়ই বিকেলে আসে। দুজনে ঘরে বসে গল্প করে, মোবাইলে গান শোনে বা টিভিতে সিরিয়াল দেখে। নিশা বলে, “সায়মা, তোর রূপ দেখলে ছেলেরা পাগল হয়ে যায়।” সায়মা হাসে, কিন্তু কিছু বলে না।
প্রতিবেশী চৌধুরী বাড়ির মেয়ে প্রিয়া। সে প্রায়ই আসে। বারান্দায় বসে আড্ডা দেয়। “ফিরোজ আঙ্কেল তো খুব সুন্দর করে কথা বলেন,” একদিন বলল প্রিয়া। সায়মা চুপ করে শুনল।
সেদিন বিকেলে ফিরোজ এলেন। মির্জা ফিরোজ। জাফরের সমবয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পঞ্চাশ বছর বয়স, কিন্তু শরীর এখনও ফিট। চওড়া কাঁধ, শক্ত চেহারা। স্ত্রী মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। ছেলেমেয়ে কানাডায়। তাই জাফরের বাড়িতে আসেন প্রায়ই। চা খান, গল্প করেন, হুমায়রার রান্নার প্রশংসা করেন। মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলেন।
বারান্দায় সায়মা ফুলের টবে পানি দিচ্ছিল। তার পরনে হালকা নীল সালোয়ার-কামিজ। খোলা চুল বাতাসে দুলছে। ফিরোজ গেট দিয়ে ঢুকতেই থমকে গেলেন। সেই শ্যামলা ত্বক, ভরাট শরীরের স্বাভাবিক বাঁক, চোখের নরম দৃষ্টি—সব মিলিয়ে মনে হলো যেন একটা ছবি। তিনি মনে মনে বললেন, “এই মেয়েটা তো ছোটবেলায় খেলত, আজ এত বড় হয়ে গেছে? তার শরীরে যেন আগুন লুকিয়ে আছে।”
“সায়মা, তুমি তো পুরো তরুণী হয়ে গেছো!” ফিরোজ হেসে বললেন। তাঁর গলায় প্রশংসা আর একটা অদ্ভুত গভীরতা।
সায়মা ঘুরে তাকাল। তার চোখে হালকা হাসি। “আঙ্কেল, আপনি তো আমাকে ছোটবেলা থেকে দেখছেন। এখন এত অবাক হচ্ছেন কেন?”
হুমায়রা ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন। “ফিরোজ ভাই, আসুন। চা দিচ্ছি।” তিনি হাসলেন, কিন্তু তাঁর চোখে একটা ছোট্ট অস্বস্তি। ফিরোজের দৃষ্টি সায়মার ওপর একটু বেশিক্ষণ থেকে গিয়েছিল।
বসার ঘরে চা খেতে খেতে কথা হচ্ছিল। রেহানা চা-বিস্কুট দিয়ে গেল। নিশা সেদিন এসেছিল, সে কোণায় বসে সব দেখছিল। পরে সায়মাকে ফিসফিস করে বলল, “তোর আঙ্কেল তো খুব সুন্দর করে তাকায় রে।”
সন্ধ্যা নামল। বারান্দায় বাতি জ্বলল। ফিরোজ চলে যাওয়ার সময় সায়মার দিকে আরেকবার তাকালেন। সায়মা হাসল। সেই হাসিতে কী ছিল, তা হয়তো সে নিজেও পুরোপুরি জানে না।
রাতে হুমায়রা একা বারান্দায় বসে রইলেন। দূরে কোনো বাড়িতে টিভিতে সিরিয়ালের আওয়াজ আসছিল। তিনি ভাবছিলেন—ফিরোজ আজ সায়মার দিকে কেন এত তাকাচ্ছিলেন? আর সায়মা তার ঘরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিল। তার মনে একটা অদ্ভুত কৌতূহল জেগে উঠেছিল। মোবাইলে একটা এসএমএস এল, কিন্তু সে দেখল না।
খুলশীর রাত নেমে এল। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, দূরের রাস্তায় রিকশার ঘণ্টি, আর মাঝে মাঝে মোবাইলের রিংটোন। বাড়ির ভেতরে সবাই নিজের নিজের মুখোশ পরে শুয়ে পড়ল। কিন্তু ঘুম আসছিল না কারোরই।
২.
খুলশীর বাড়িটায় দিনগুলো এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক ছন্দে চলছিল না। দুই হাজারের দশকের শুরু। সকালে মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠত, রেহানা চা বানিয়ে দিত, হুমায়রা টিভিতে সিরিয়াল দেখতেন। কিন্তু বাতাসে কেমন যেন একটা অস্থিরতা ভেসে বেড়াত। ফিরোজ সাহেবের আসা-যাওয়া বেড়ে গিয়েছিল।
সকালবেলা। সায়মা তার ঘরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল। তার শ্যামলা ত্বকে সূর্যের আলো পড়ে ঝলমল করছিল। হালকা একটা টপস আর সালোয়ার পরা। ভরাট বুক, সরু কোমর—যৌবন যেন তার শরীরে নতুন করে জেগে উঠেছে। রেহানা চা নিয়ে ঢুকল।
“আপু, আজ কলেজ আছে?”
সায়মা আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতে বলল, “হ্যাঁ। নিশা আসবে।”
রেহানা চুপ করে একটু তাকিয়ে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, “কাল ফিরোজ সাহেব এসেছিলেন। অনেকক্ষণ আপনার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।”
সায়মা হাসল। “কী বলিস রেহানা! উনি তো বাবার বন্ধু। ছোটবেলা থেকে দেখছেন।”
কলেজে গিয়ে নিশার সঙ্গে দেখা। দুজনে ক্লাসের ফাঁকে বসে গল্প করছিল। নিশা ফিসফিস করে বলল, “কিরে সায়মা, তোর বাড়িতে ফিরোজ আঙ্কেলের কী অবস্থা! তোর দিকে যেভাবে তাকাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল যেন তোকে গিলে খাবে। বয়স হলেও তো খুব ফিট আছে।”
সায়মা লজ্জা পেল না। বরং তার চোখে একটা দুষ্টু আলো জ্বলে উঠল। “থাম তো। উনি অনেক বড়। পঞ্চাশ বছর বয়স। তবে… কথা বললে মনে হয় অনেক কিছু জানেন।”
বিকেলে বাড়ি ফিরে সায়মা দেখল ফিরোজ সাহেব আবার এসেছেন। জাফর সাহেব এখনও অফিস থেকে ফেরেননি। হুমায়রা রান্নাঘরে ব্যস্ত। ফিরোজ বারান্দায় বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন। সায়মা ইচ্ছে করে কাছে গেল।
“আঙ্কেল, চা খাবেন?”
ফিরোজ মোবাইল রেখে তাকালেন। সায়মার চেহারা দেখে তাঁর চোখে একটা অদ্ভুত আলো জ্বলে উঠল। “হ্যাঁ সায়মা। তুমি বসো।”
দুজনে বসল। ফিরোজ জিজ্ঞেস করলেন, “কলেজ কেমন চলছে? এখন তো তোমার বয়সটা সবচেয়ে সুন্দর সময়। স্বপ্ন দেখার, নতুন কিছু শেখার।”
সায়মা তার চোখে চোখ রেখে বলল, “আঙ্কেল, আপনি তো অনেক কিছু জানেন। জীবন সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে। আমাকে একটু শেখাবেন?”
ফিরোজ হাসলেন। তাঁর হাসিতে অভিজ্ঞতার ছায়া। “শেখাতে চাইলে অনেক কিছু শেখাতে পারি। কিন্তু তুমি কি সত্যিই শিখতে চাও?”
সায়মার ঠোঁটে হালকা হাসি। “কেন চাইব না?”
হুমায়রা চা নিয়ে এসে দেখলেন দুজনে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছে। তাঁর মনে একটা খচখচানি শুরু হলো। ফিরোজের সঙ্গে তাঁর নিজের সম্পর্ক তো শুধু হালকা ফ্লার্টিং। কয়েক বছর ধরে তিনি ফিরোজের কথায়, প্রশংসায় নিজেকে একটু জীবন্ত মনে করতেন। কিন্তু আজ সায়মার সঙ্গে তাঁর এই কথোপকথন তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দিল।
রাতে রেহানা সায়মার ঘর গোছাতে গিয়ে বলল, “আপু, ফিরোজ সাহেব আপনার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলছিলেন। সাবধানে থাকবেন।”
সায়মা হাসল। “তুই চিন্তা করিস না। আমি জানি কী করছি।”
পরের কয়েকদিন ফিরোজের আসা আরও বেড়ে গেল। জাফর সাহেব ব্যবসার কাজে ঢাকায় গিয়েছেন। বাড়িতে হুমায়রা, সায়মা আর রেহানা। ফিরোজ প্রায় প্রতিদিন আসেন। কখনো হুমায়রার সঙ্গে হালকা কথা বলেন, কখনো সায়মার সঙ্গে বারান্দায় বসে গল্প করেন। হুমায়রা লক্ষ করছেন, ফিরোজের দৃষ্টি এখন সায়মার দিকে বেশি সময় থেকে যায়।
এক দুপুরে বাড়ি ফাঁকা। হুমায়রা আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। রেহানা রান্নাঘরে। ফিরোজ এসে সোফায় বসলেন। সায়মা চা নিয়ে এল। কাপ দেওয়ার সময় ফিরোজের আঙুল ইচ্ছে করে সায়মার আঙুল ছুঁয়ে গেল। সেই স্পর্শে সায়মা শিহরিত হলো।
“আঙ্কেল…”
ফিরোজ তার চোখে চোখ রেখে আস্তে করে বললেন, “সায়মা, তুমি জানো না, এই কয়েকদিন তোমাকে দেখে আমার মনে কী চলছে। তোমার এই যৌবন, তোমার শরীরের এই উষ্ণতা—আমার পুরোনো জীবনকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।”
সায়মা চুপ করে রইল। তার চোখে ভয় নয়, একটা কৌতূহল।
বিকেলে নিশা এসে সায়মাকে জিজ্ঞেস করল, “কী রে, তোর চেহারা এত অন্যরকম লাগছে কেন?”
সায়মা শুধু হাসল। “জীবনটা একটু বদলে যাচ্ছে রে নিশা।”
প্রিয়া সন্ধ্যায় এসে বলল, “ফিরোজ আঙ্কেল তো তোদের বাড়িতে এখন প্রায়ই আসেন। তোর মা কিছু বলে না?”
সায়মা চুপ করে রইল।
হুমায়রা সেই রাতে একা বারান্দায় বসে রইলেন। দূরে কোথাও টিভির আওয়াজ আসছিল। তিনি ভাবছিলেন—ফিরোজের সঙ্গে তাঁর যে হালকা সম্পর্ক ছিল, সেটা কি শেষ হয়ে যাচ্ছে? আর সায়মা তার ঘরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে এসএমএস টাইপ করছিল। তার মনে ফিরোজের সেই স্পর্শ আর চোখের দৃষ্টি বারবার ফিরে আসছিল।
খুলশীর রাত গভীর হলো। বাড়ির আলো একে একে নিভে গেল। কিন্তু তিনজন মানুষের মনে তিন রকম আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। সায়মার কৌতূহল, ফিরোজের আকাঙ্ক্ষা, আর হুমায়রার অস্বস্তি। মুখোশগুলো এখনও অটুট, কিন্তু ফাটল ধরতে শুরু করেছে।
৩.
খুলশীর বাড়িটায় দিনগুলো এখন কেমন যেন ভারী হয়ে উঠেছিল। দুই হাজারের দশকের শুরু। বাইরে রাস্তায় রিকশার ঘণ্টি বাজত, মোবাইলের রিংটোন শোনা যেত, টিভিতে সিরিয়াল চলত। কিন্তু বাড়ির ভেতরে একটা অদৃশ্য ঝড় উঠছিল, যার কোনো শব্দ ছিল না।
সেদিন দুপুরে আকাশটা মেঘলা ছিল। জাফর সাহেব ঢাকায় ব্যবসার কাজে গিয়েছেন। হুমায়রা এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন, ফিরবেন সন্ধ্যার পর। রেহানা রান্নাঘরে চুপচাপ কাজ করছিল। সায়মা কলেজ থেকে ফিরে তার ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিল। পরনে হালকা একটা টপস আর সালোয়ার। লম্বা চুল খোলা, শ্যামলা ত্বকে দুপুরের আবছা আলো পড়ে এক অপূর্ব উজ্জ্বলতা তৈরি করেছে।
ঠিক তখনই ফিরোজ এলেন। গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই রেহানা তাঁকে দেখে সামান্য চমকে উঠল। “সাহেব, বড় আপা বাইরে গেছেন।”
ফিরোজ হাসলেন। “কোনো সমস্যা নেই। সায়মা আছে তো?”
সায়মা দরজা খুলে ফিরোজকে দেখে অবাক হলো না। বরং তার ঠোঁটে একটা হালকা হাসি ফুটে উঠল। “আঙ্কেল, আপনি?”
ফিরোজ ঘরে ঢুকে দরজাটা আস্তে করে বন্ধ করলেন। তাঁর চওড়া কাঁধ, শক্ত শরীর আর অভিজ্ঞ চোখ দুপুরের আলোয় আরও গভীর লাগছিল। তিনি সায়মার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে এলাম। বাড়িতে তো কেউ নেই।”
সায়মা বিছানায় বসল। ফিরোজ কাছে এসে বসলেন। কথা শুরু হলো সাধারণভাবে, কিন্তু সেই কথার ভেতরে কেমন যেন একটা অন্য সুর বাজছিল। ফিরোজ আস্তে করে সায়মার হাতটা ধরলেন। তার আঙুলগুলো গরম। সায়মা শিহরিত হয়ে উঠল, কিন্তু হাত সরিয়ে নিল না।
“সায়মা, তুমি জানো না, এই কয়েকদিন তোমাকে দেখে আমার মনে কী চলছে,” ফিরোজের গলা নিচু। “তোমার এই যৌবন, তোমার শরীরের এই উষ্ণতা… আমার পঞ্চাশ বছরের জীবনকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।”
সায়মা চুপ করে রইল। তার বড় চোখে কৌতূহল আর একটা অদ্ভুত সাহস। ফিরোজ ঝুঁকে তার কপালে, তারপর ঠোঁটে আলতো করে চুমু দিলেন। সায়মা প্রথমে কেঁপে উঠল, কিন্তু তারপর সাড়া দিল। ঘরের আবছা আলোয় দুজনের শরীর কাছাকাছি এসে গেল। ফিরোজের অভিজ্ঞ হাত সায়মার পিঠে, ঘাড়ে, তারপর ধীরে ধীরে আরও নিচে নেমে গেল। সায়মা নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল।
“আঙ্কেল… এখানে নয়,” সায়মা ফিসফিস করে বলল। “বাড়িতে… মা… সমাজ…”
ফিরোজ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন, “তাহলে চলো আমার গেস্ট ফ্ল্যাটে। শহরের বাইরে, নির্জন।”
সেই দুপুরে তারা বেরিয়ে পড়ল। ফিরোজের গাড়িতে করে শহরের বাইরের ছোট ফ্ল্যাটে। রাস্তায় সায়মা জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার মনে ভয় আর উত্তেজনা মিশে ছিল। ফিরোজ তার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন।
ফ্ল্যাটে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই ফিরোজ সায়মাকে জড়িয়ে ধরলেন। আবছা আলোয় তাদের শরীর এক হয়ে গেল। ফিরোজের অভিজ্ঞ স্পর্শ সায়মার শরীরকে নতুন করে চিনিয়ে দিল। তিনি ধীরে ধীরে তার জামা খুললেন। সায়মার শ্যামলা ত্বক, ভরাট বুক, সরু কোমর—সবকিছু তাঁর চোখে এক অপূর্ব দৃশ্য। তিনি তার ঠোঁট, ঘাড়, বুক, নাভিতে চুমু দিতে দিতে নামতে লাগলেন। সায়মা কাঁপছিল, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল। প্রথমবারের যন্ত্রণায় তার ঠোঁট কেঁপে উঠল, কিন্তু ফিরোজের অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে আনন্দের জগতে নিয়ে গেল।
ঘর ভরে উঠল নিঃশ্বাস আর ফিসফিসানিতে। মিলনের পর সায়মার শরীরে ছোট্ট রক্তের চিহ্ন রয়ে গেল। ফিরোজ তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “তুমি অসাধারণ, সায়মা। কিন্তু এটা আমাদের গোপন রাখতে হবে। বাড়িতে কেউ জানবে না।”
সায়মা হাসল। “আমি জানি। বাড়িতে আমরা আঙ্কেল-ভাতিজি। বাইরে অন্য কিছু।”
বিকেলে বাড়ি ফিরে সায়মা সোজা তার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। রেহানা লক্ষ করল তার চেহারায় একটা পরিবর্তন। চোখে একটা নতুন আলো, চলনে একটা অন্যরকম ভঙ্গি। কিন্তু রেহানা কিছু বলল না।
হুমায়রা সন্ধ্যায় ফিরে এসে সায়মাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় গিয়েছিলি?”
সায়মা স্বাভাবিক গলায় বলল, “নিশার সঙ্গে একটু ঘুরতে গিয়েছিলাম।”
রাতে হুমায়রা লন্ড্রি বাস্কেট গোছাতে গিয়ে সায়মার পাজামায় ছোট্ট রক্তের দাগ দেখলেন। তাঁর হাত থেমে গেল। এটা পিরিয়ডের দাগ নয়। তাঁর মনে একটা সন্দেহের বীজ পুঁতে গেল। “সায়মা… ফিরোজ…” তিনি আস্তে করে বললেন।
নিশা পরের দিন কলেজে সায়মাকে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে রে? তোর চেহারা অন্যরকম লাগছে।”
সায়মা শুধু হাসল। “জীবনটা বদলে যাচ্ছে, নিশা।”
প্রিয়া বিকেলে এসে বলল, “ফিরোজ আঙ্কেল তো তোদের বাড়িতে খুব ঘনঘন আসেন। কী ব্যাপার?”
সায়মা চুপ করে রইল।
ফিরোজ বাড়ি ফিরে একা ঘরে বসে সিগারেট ধরালেন। সায়মার শরীরের স্পর্শ এখনও তাঁর হাতে লেগে আছে। তাঁর অভিজ্ঞ জীবন অনেক কিছু দেখেছে, কিন্তু এই তরুণীর নিষ্পাপ অথচ সাহসী যৌবন তাঁকে নতুন করে পাগল করে তুলছে।
হুমায়রা সেই রাতে একা শুয়ে অনেকক্ষণ জেগে রইলেন। তাঁর মনে ফিরোজের সঙ্গে নিজের হালকা সম্পর্কের স্মৃতি আর সায়মার দিকে তার দৃষ্টির ছবি মিশে যাচ্ছিল। খুলশীর রাত গভীর হয়ে গেল। বাড়ির আলো নিভে গেল, কিন্তু তিনজন মানুষের মনে তিন রকম আগুন জ্বলতে লাগল।
৪.
খুলশীর বাড়িটা বাইরে থেকে দেখলে এখনও শান্ত আর সুন্দর। দুই হাজারের দশকের মাঝামাঝি। সকালে রেহানা চা বানিয়ে দিত, হুমায়রা টিভিতে সিরিয়াল দেখতেন, সায়মা মোবাইলে এসএমএস টাইপ করত। কিন্তু ভেতরের হাওয়া ভারী হয়ে উঠেছিল। কেউ কথা বলত না, কিন্তু সবাই কিছু না কিছু টের পাচ্ছিল।
সায়মা এখন আর আগের মতো ছিল না। তার চোখে একটা নতুন আলো, চলনে একটা অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। কলেজে নিশা তার হাত ধরে বলত, “কিরে, তোর চেহারা দেখে মনে হয় কোনো গোপন কথা আছে। ফিরোজ আঙ্কেলের সঙ্গে কিছু চলছে নাকি?”
সায়মা হাসত, কিন্তু কিছু বলত না। তার মনে বারবার ফিরোজের সেই গেস্ট ফ্ল্যাটের ছবি ভেসে উঠত। আবছা আলো, তাঁর শক্ত বুক, অভিজ্ঞ হাতের স্পর্শ। সে জানত এটা ঠিক নয়, কিন্তু নিষিদ্ধের স্বাদ তার রক্তে মিশে গিয়েছিল।
ফিরোজ এখন প্রায়ই আসতেন। জাফর সাহেব ব্যবসার কাজে বাইরে গেলে তিনি চলে আসতেন। বাড়িতে তিনি এখনও আঙ্কেল। হাসিমুখে কথা বলতেন, হুমায়রার রান্নার প্রশংসা করতেন। কিন্তু তাঁর চোখ সায়মার দিকে বেশিক্ষণ থেকে যেত। এক বিকেলে বারান্দায় বসে তিনি সায়মাকে বললেন, “তোমার সঙ্গে একটু কথা আছে।”
সায়মা তার চোখে চোখ রেখে হাসল। “কখন বলবেন?”
দুপুরে বাড়ি ফাঁকা থাকলে তারা বেরিয়ে পড়ত। ফিরোজের গাড়িতে করে শহরের বাইরের সেই ছোট ফ্ল্যাটে। সেখানে দরজা বন্ধ করার পর আর কোনো আঙ্কেল-ভাতিজি থাকত না। ফিরোজের অভিজ্ঞ হাত সায়মার শরীরে নেমে আসত। তিনি ধীরে ধীরে তার জামা খুলতেন, তার শ্যামলা ত্বকে চুমু দিতেন। সায়মা কাঁপত, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠত। প্রতিবারই সে আরেকটু বেশি করে শিখত। ফিরোজ ফিসফিস করে বলতেন, “তুমি আমাকে শেষ করে দিচ্ছ সায়মা। তোমার এই তরুণ শরীর আমার পুরোনো জীবনকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।”
কিন্তু গোপন জিনিস লুকানো যায় না বেশিদিন। রেহানা সব দেখছিল। সায়মার ঘরে অচেনা পারফিউমের গন্ধ, কখনো বিছানায় অচেনা চুল, কখনো তার চেহারায় একটা অন্যরকম আভা। সে চুপ করে থাকত, কিন্তু তার চোখে সবসময় সতর্কতা।
হুমায়রা আর চুপ করে থাকতে পারছিলেন না। তিনি লক্ষ করছিলেন ফিরোজের দৃষ্টি, সায়মার হাসি, তার মোবাইলে আসা এসএমএস। এক সন্ধ্যায় তিনি ফিরোজকে ছাদে ডেকে নিয়ে গেলেন। বাতাসে হালকা ঠান্ডা ভাব।
“ফিরোজ ভাই, তুমি সায়মার সঙ্গে কী করছ?” হুমায়রার গলা কাঁপছিল। “আমি সব বুঝতে পেরেছি। সেই রক্তের দাগ… তোমার চোখ… সব।”
ফিরোজ চুপ করে রইলেন। তারপর আস্তে করে বললেন, “হুমায়রা, আমি নিজেও জানি না কীভাবে এতদূর চলে এসেছি। সায়মা নিজেও চেয়েছে। কিন্তু এটা ভুল হয়েছে।”
হুমায়রার চোখে জল এল না, কিন্তু ঠোঁট কেঁপে উঠল। “তুমি আমার একাকীত্বে আলো দিতে এসেছিলে। আমার সঙ্গে হালকা কথা বলে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলে। আর এখন আমার মেয়েকে… আমার সায়মাকে তুমি ছুঁয়েছ? আমরা সমাজের চোখে কী? নিখুঁত পরিবার? আর ভেতরে এই সব?”
ফিরোজ মাথা নিচু করে বললেন, “আমি ক্ষমা চাই না। কিন্তু সায়মা আর ছোট মেয়ে নেই। সে জানে কী করছে।”
ঠিক সেই সময় সায়মা ছাদের দরজায় এসে দাঁড়াল। “মা, থামো। এটা আমার সিদ্ধান্ত। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। ফিরোজ আঙ্কেল আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। আমি এখন আর আগের মতো নই।”
হুমায়রা সায়মার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখে মেয়ের প্রতি ভালোবাসা আর গভীর হতাশা মিশে গেল। “সায়মা, তুই জানিস না এর পরিণতি কী হতে পারে। তোর বাবা, সমাজ, সবাই…”
জাফর সাহেব সেই রাতে বাড়ি ফিরে সবকিছু টের পেলেন। তিনি সায়মার মোবাইল চেক করে ফিরোজের কয়েকটা মেসেজ দেখলেন। তাঁর মুখ লাল হয়ে গেল। তিনি ফিরোজকে ফোন করে বললেন, “কাল আসিস। অনেক কথা আছে।”
পরের দিন ফিরোজ এলেন। জাফর তাঁকে একান্তে ডেকে নিয়ে বললেন, “ফিরোজ, তুই আমার বন্ধু। আমার মেয়ের সঙ্গে এসব কী করছিস? আমি সব জানি।”
ফিরোজ চুপ করে রইলেন। শেষে বললেন, “আমি ভুল করেছি জাফর। কিন্তু এখন আর ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না।”
বাড়িতে সেদিন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। হুমায়রা সায়মার কপালে চুমু দিয়ে বললেন, “মেয়ে, তুই ভেঙে পড়িস না। পুরুষেরা আসে, যায়। কিন্তু নিজেকে ভালোবাস।” সায়মা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “মা, আমি ঠিক আছি। এটা আমার শিক্ষা।”
রেহানা সব শুনল, কিন্তু চুপ করে রইল। নিশা আর প্রিয়া বাইরে থেকে কিছু আঁচ করল, কিন্তু কিছু বলল না। খুলশীর সমাজে গুঞ্জন উঠল, কিন্তু কেউ সরাসরি কিছু বলল না। সবাই মুখোশ পরে চলছে।
শেষ সন্ধ্যায় বারান্দায় হুমায়রা একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। শাড়ির আঁচল বাতাসে উড়ছিল। জাফর ভেতরে টিভি দেখছিলেন। সায়মা তার ঘরে জানালা খুলে গান শুনছিল। ফিরোজ আর আসেননি সেদিন।
বাইরে থেকে বাড়িটা এখনও নিখুঁত। সমাজ দেখে সম্মান আর শান্তি। কিন্তু ভেতরে তিনজন মানুষ তিনটি মুখোশ পরে বেঁচে আছে। সায়মা তার নতুন শক্তি নিয়ে, হুমায়রা তার যন্ত্রণা নিয়ে, জাফর তার সন্দেহ নিয়ে। ফিরোজের ছায়া এখনও রয়ে গেছে।
খুলশীর আকাশে সায়াহ্নের রং ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসে একটা হালকা দগদগে আগুনের গন্ধ। কেউ দেখছে না, কেউ বলছে না। মুখোশগুলো এখনও অটুট। হয়তো চিরকালই থাকবে।
৫.
খুলশীর বাড়িটায় সেই রাতটা ছিল অস্বাভাবিক রকম নীরব। দুই হাজারের দশকের মাঝামাঝি। বাইরে রাস্তায় রিকশার ঘণ্টি মাঝে মাঝে বেজে উঠছিল, দূরের কোনো বাড়িতে টিভির আওয়াজ ভেসে আসছিল। কিন্তু জাফর আহমেদের বাড়ির ভেতরে যেন সময় থেমে গিয়েছিল।
জাফর সাহেব সোফায় বসে সিগারেট টানছিলেন। তাঁর মুখ গম্ভীর। সায়মার মোবাইলে ফিরোজের কয়েকটা মেসেজ তিনি দেখে ফেলেছিলেন। সেই রাতে তিনি ফিরোজকে ফোন করে বলেছিলেন, “কাল আসিস। কথা আছে।”
ফিরোজ পরের দিন সন্ধ্যায় এলেন। তাঁর চেহারায় একটা ক্লান্তি। জাফর তাঁকে একান্তে ডেকে নিয়ে গেলেন। বসার ঘরের দরজা বন্ধ।
“ফিরোজ, তুই আমার বন্ধু। আমার মেয়ের সঙ্গে এসব কী করছিস?” জাফরের গলা নিচু, কিন্তু কঠিন। “আমি সব জানি।”
ফিরোজ অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর আস্তে করে বললেন, “জাফর, আমি ভুল করেছি। আমি নিজেও জানি না কীভাবে এতদূর চলে এসেছি। সায়মা… ও নিজেও চেয়েছিল। কিন্তু এটা আমার দোষ।”
জাফর কিছু বললেন না। শুধু সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলেন। অনেকক্ষণ পর বললেন, “তুই আর এ বাড়িতে আসিস না।”
ফিরোজ মাথা নিচু করে চলে গেলেন।
সেই রাতে হুমায়রা সায়মার ঘরে গেলেন। সায়মা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। হুমায়রা তার কপালে হাত রাখলেন।
“মা, আমি ঠিক আছি,” সায়মা আস্তে করে বলল।
হুমায়রা তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, “তুই আমার একমাত্র মেয়ে। পুরুষেরা আসে, যায়। কিন্তু নিজেকে ভালোবাসিস। ভেঙে পড়িস না।”
সায়মা মায়ের কাঁধে মাথা রাখল। দুজন অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। কোনো কথা হলো না।
রেহানা সব শুনছিল। সে চুপ করে রান্নাঘরে কাজ করছিল। তার চোখে জল ছিল, কিন্তু সে মুছে ফেলল। এই বাড়ির কথা বাইরে বলা যায় না।
নিশা পরের দিন কলেজে সায়মাকে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে রে? তোর চোখ লাল কেন?”
সায়মা হাসল। “কিছু না। জীবনটা একটু শিখিয়ে দিল।”
প্রিয়া বিকেলে এসে হুমায়রার সঙ্গে বসল। কিন্তু কেউ কোনো কথা বলল না। খুলশীর সমাজে গুঞ্জন উঠেছিল, কিন্তু কেউ সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করল না। সবাই মুখোশ পরে চলছে।
ফিরোজ আর এ বাড়িতে এলেন না। তাঁর ফোনও বন্ধ। তিনি একা তাঁর ঘরে বসে সিগারেট টানতেন। সায়মার স্পর্শ এখনও তাঁর হাতে লেগে ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই খেলায় তিনিই হেরে গেছেন।
জাফর সাহেব আবার আগের মতো ব্যস্ত হয়ে গেলেন। বাড়িতে এলে টিভি দেখতেন, খবরের কাগজ পড়তেন। কিন্তু তাঁর চোখে একটা ছায়া পড়ে গিয়েছিল।
হুমায়রা রাতে একা বারান্দায় বসতেন। শাড়ির আঁচল বাতাসে উড়ত। তিনি অনেক দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তাঁর একাকীত্ব আবার ফিরে এসেছিল, কিন্তু এবার আরও গভীর হয়ে।
সায়মা তার ঘরে জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে থাকত। তার মোবাইলে আর ফিরোজের মেসেজ আসত না। সে জানত, এটা শেষ। কিন্তু সে আর আগের মতো ছোট মেয়ে ছিল না। তার ভেতরে একটা নতুন শক্তি জন্ম নিয়েছিল।
খুলশীর আকাশে সায়াহ্নের রং ছড়িয়ে পড়ত। বাতাসে হালকা একটা দগদগে গন্ধ ভেসে বেড়াত। বাড়ির আলো একে একে নিভে যেত। বাইরে থেকে সবকিছু এখনও নিখুঁত। সমাজ দেখত সম্মান আর শান্তি। কিন্তু ভেতরে তিনজন মানুষ তিনটি মুখোশ পরে বেঁচে ছিল।
কেউ আর মুখোশ খুলতে চাইত না। কারণ ভেতরের মুখটা হয়তো আর কারও ভালো লাগত না।