
এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতারাতি পাকা ভবন নির্মাণের কাজে ব্যস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিবাদীদের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয় সালিশ-মীমাংসা উপেক্ষা করে বিবাদী সবুজ খান ও তার শ্বশুর দুলাল শিকদারের নেতৃত্বে এই দখলযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের জেএল নং ৪৬ এর শিবপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১৪৬ এর ৬০ নং দাগের ৩ শতাংশ জমির মধ্যে মোঃ সবুজ খান, মোসাঃ রিপা বেগম, মোঃ দুলাল সিকদার, মোঃ মামুন খা, উভয় সর্ব সাং গুলবাগ, ইউনিয়ন- সূর্যমনিরা একজোট হয়ে বিরোধীয় জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে পটুয়াখালী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটা এমপি মামলা নং ১৭/২৬ দায়ের করা হয়। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বাউফল থানায় ও কালিশুরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নোটিশ প্রেরন করেন। এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ সহ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রদান করার নির্দেশ দেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা নোটিশ পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ও কালিশুরী ইউনিয়ন ভূমি অফিস দুই পক্ষকে যাতে বিরোধীয় জমিতে বাদী কিংবা বিবাদীরা প্রবেশ করে কোনো প্রকার আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করতে পারে মর্মে নোটিশ প্রদান করেন।
বাদী আবুল হোসেন বলেন- আমি এবং আমার ১২ ভাই-বোন দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী সবুজ এবং তার শ্বশুর দুলাল শিকদার ওই জমিতে জোরপূর্বক বসতভিটা ও পাকা দালান নির্মাণের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিলে তারা তা অমান্য করেন এবং একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালত উক্ত জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে, গত কয়েকদিনের মধ্যে রাতারাতি ওই জমিতে অবৈধ পাকা দালান গড়ে তোলে সবুজ ও দুলাল শিকদার গং।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সবুজ ও দুলাল শিকদার কোনো আইন-কানুন মানছে না। আমরা বাধা দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আদালতের আদেশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কোনো সালিশ বৈঠকও তারা মানতে নারাজ। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে বিবাদীদের মধ্যে দুলাল শিকদারের মুঠোফোনে কল দিয়ে কথা বললে জানান- আমরা কোনো নিষেধাজ্ঞার কাগজ পাইনি তাই আমাদের জমিতে আমরা পাকা ভবনের কাজ করছি।
বাদী ও বিবাদীদের কাছে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ প্রদান করা বাউফল থানার এসআই মোঃ গোলাম মোস্তফা, এএসআই মুহাঃ আল-আমীন ও এসআই মোঃ ইব্রাহিম মোল্লা বলেন- আমি নিজে গিয়ে বাদী ও বিবাদীদের কাছে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ দিয়ে এসেছি। তবে বিবাদীরা যে বলেছে তারা নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পায়নি তা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।
উদ্ধৃত টেক্সট লুকান
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে তাদের পৈতৃক জমি উদ্ধার এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।