
মো:মনিরুল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি:
আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচি ও চাচাতো ভাইয়ের বউকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে পাঁচটি পরিবারের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
সোমবার ১৭ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব চিলা গ্রামের মো. ইউনুস প্যাদা, তার ছেলে আলআমিন প্যাদা, স্ত্রী সালেহা, পুত্রবধূ সুরমাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে সোমবার সকালে পাঁচটি পরিবারের চলাচলের পথে বাঁশের বেড়া দেন প্রতিপক্ষের লোকজন।
এ সময় বেড়া দিতে বাধা দিলে আলমা নামে এক নারীকে লাঠিসোঁটা ও ধারালো দা দিয়ে মারধর করে কাদায় ফেলে রাখার অভিযোগ ওঠে।
পরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে তার পুত্রবধূকেও মারধর এবং মাথায় দা দিয়ে কোপ দিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
আহতদের স্বজন জুলহাস প্যাদা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে এসে দেখেন তার মা ও স্ত্রী আহত অবস্থায় রয়েছেন। তার অভিযোগ, ঘরে থাকা ছেলে-মেয়েদেরও লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করা হয়েছে।
আহত আলেয়ার অভিযোগ, চলাচলের পথে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে ইউনুস প্যাদা ও তার ছেলে-মেয়ে এবং পুত্রবধূ মিলে মারধর করে কাদায় ফেলে রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলআমিন প্যাদা জানান, ওরা আগে আমাদের মারধর করছে, উল্টো অভিযোগ করছে। সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিওিহীন।
উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা:স্বর্না জানান, আহতদের মাথায়, হাতে, পায়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।