
এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর বাউফলের একটি স্কুলে পাঠদান চলাকালে অন্য বিদ্যালয়ের একদল কিশোরের ঘোরাঘেফার কারণ জানতে চাওয়ায় এক প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন হামলায় জড়িত দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পরে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের পেছনে এই ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব জৌতা এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানের সঙ্গে অন্য একটি দলের এক খেলোয়াড়ের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জেরে সোহান কে মারধরের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে অন্য একটি বিদ্যালয়ের পোশাক পরা ১৫ থেকে ২০ জন কিশোর ওই বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের পেছনে অবস্থান নেয়।
বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের নজরে পড়লে তিনি তাদের সেখানে ঘোরাঘেরার কারণ জানতে চান। একই সঙ্গে তারা কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সেটিও জানতে চান। তবে কোনো উত্তর না দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় প্রধান শিক্ষক একজনের হাত ধরে তাকে থামিয়ে পরিচয় জানতে চান। তখন সঙ্গে থাকা কয়েকজন কিশোর প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়ে তাকে ঘিরে ধরে ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘পাঠদান চলাকালে অন্য বিদ্যালয়ের পোশাক পরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের কারণ জানতে চাই। তারা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তখন একজনের হাত ধরে ফের জানতে চাইলে কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার করে ধর ধর বলে ডাক দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন দুইজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।’
প্রধান আরও শিক্ষক জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা, যা আগে থেকেই বিরোধের বিষয়টি তিনি জানতেন না। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আটক দুজনই এলাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। আটক দুজনই শিশু। এ কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা রেখে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।