
এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন সদর ইউনিয়ন ও আলিপুর বাজার এলাকায় ব্রিজের নিচে এবং জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকান নির্মাণের পর প্রতি দোকান ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। আবার দোকান বসিয়ে দেওয়া হলে সেখান থেকেও বছরে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিপুর এলাকায় এভাবে প্রায় ১২০ থেকে ২০০টি দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারি জায়গা ও সড়কের পাশের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। এতে পথচারী ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও নানা ধরনের ভোগান্তি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ দোকান একাধিকবার উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিন পরই আবার একই জায়গায় দোকান বসানো হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর পুনরায় দোকান বসানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সহযোগিতা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় দোকান নির্মাণ করে তা ৬০–৮০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ, অন্যদিকে একই জায়গায় দোকান বসিয়ে বছরে ৪০–৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ—সবকিছুই যেন প্রকাশ্যেই চলছে। অথচ বিষয়টি দেখার যেন কেউই নেই।
প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি জায়গা কিংবা জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে দোকান নির্মাণ ও বিক্রি করার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? এসব দোকান থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হলে সেই অর্থ যাচ্ছে কোথায়? উচ্ছেদের পর একই স্থানে আবার দোকান বসছে কীভাবে?
এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধু তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে দোকান নির্মাণ, বিক্রি ও ভাড়া আদায়ের সঙ্গে কারা জড়িত এবং উচ্ছেদের পর কার সহযোগিতায় পুনরায় দোকান বসছে—তা খতিয়ে দেখা হোক।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ, লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য—আর সাধারণ মানুষ পোহাবে ভোগান্তি; এ অবস্থার অবসান কবে?